কাজ করতে করতে ক্লান্ত ও অলস লাগছে? কখন একটু থামবেন, আজ নিজেই বুঝলাম

কাজ করতে করতে ক্লান্ত ও অলস লাগছে? কখন একটু থামবেন, আজ নিজেই বুঝলাম একটানা অনেকক্ষণ কাজ করার পর এমন একটা সময় আসে, যখন সামনে কাজ থাকলেও আর কাজ করতে ইচ্ছে…

Tanim Sarkar · প্রকাশিত · ৬ মিনিটে পড়া

কাজ করতে করতে ক্লান্ত ও অলস লাগছে? কখন একটু থামবেন, আজ নিজেই বুঝলাম

কাজ করতে করতে ক্লান্ত ও অলস লাগছে? কখন একটু থামবেন, আজ নিজেই বুঝলাম

একটানা অনেকক্ষণ কাজ করার পর এমন একটা সময় আসে, যখন সামনে কাজ থাকলেও আর কাজ করতে ইচ্ছে করে না।

কম্পিউটার সামনে আছে। সময়ও আছে। কাজের তালিকাও আছে। কিন্তু মাথাটা যেন আর সহযোগিতা করতে চায় না।

কিছুক্ষণ আগে যে কাজটা স্বাভাবিকভাবে করতে পারছিলাম, সেটাই তখন বিরক্তিকর মনে হয়। শরীরও ভালো লাগে না, মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যায়।

আজ আমার নিজের সঙ্গে ঠিক এমনটাই হয়েছে।

আর আজকের একটা ছোট অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে ভাবিয়েছে, সবসময় বেশি কাজ করাই productivity নয়। কখনো কখনো সঠিক সময়ে থামতেও জানতে হয়।

## আজ আমার কী হয়েছিল?

আজ বেশ কিছুক্ষণ ধরে একটানা কাজ করছিলাম।

একটার পর একটা কাজ করতে করতে একটা পর্যায়ে এসে বুঝলাম, আমার শরীর ভালো লাগছে না। মাথাটাও ভার হয়ে আসছিল। কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছিল।

প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই মনে হলো, একটু জোর করে কাজ করলেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর বুঝলাম, সমস্যাটা শুধু কাজ করতে ইচ্ছে না করার নয়। আমি আসলে বেশ ক্লান্ত হয়ে গেছি।

তখন আর নিজেকে জোর না করে কাজটা রেখে উঠে গেলাম।

## তারপর মায়ের কাছে গেলাম

আমি মায়ের কাছে গিয়ে একটা সাধারণ কথা শুরু করলাম।

ভাবিনি কথাটা এতক্ষণ চলবে।

কিন্তু মা সেই একটা বিষয় থেকেই আরও অনেক কথা বলতে শুরু করলেন। আমি মূলত শুনছিলাম।

মাঝে মাঝে শুধু বলছিলাম,

“হুম।”

“ঠিক আছে।”

“তারপর?”

এভাবেই কথা বলতে বলতে প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় চলে গেল।

এই পুরো সময়টাতে আমি কোনো কাজ করিনি।

কম্পিউটারের সামনে বসিনি। কোনো business planning করিনি। কোনো productivity technique প্রয়োগ করার চেষ্টা করিনি।

শুধু মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছি।

আধা ঘণ্টা পর কী হলো?

কথা শেষ করে যখন আবার নিজের কাজে ফিরে এলাম, তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করলাম।

আমার আগের অবস্থাটা আর নেই।

মাথাটা অনেক হালকা লাগছে।

মনটা ভালো লাগছে।

শরীরও আগের তুলনায় অনেক স্বাভাবিক লাগছে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবার কাজ করতে ইচ্ছে করছে।

কিছুক্ষণ আগেও যে কাজগুলো করতে বিরক্ত লাগছিল, সেগুলোই আবার করতে বসতে পারছি।

আজকের এই ছোট্ট অভিজ্ঞতা আমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝিয়েছে।

## সবসময় ক্লান্তিকে অলসতা ভাবা ঠিক নয়

আমরা অনেক সময় কাজ করতে ইচ্ছে না করলেই নিজেদের অলস বলে ফেলি।

“আমি অলস হয়ে যাচ্ছি।”

“আমার discipline নেই।”

“আমি ঠিকমতো focus করতে পারছি না।”

কিন্তু প্রতিবার বিষয়টা এমন নয়।

দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজের মধ্যে থাকার পর আমাদের একটু বিরতি প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব কাজের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, screen-এর দিকে তাকানো বা মনোযোগ ধরে রাখা লাগে, সেখানে কাজের সময়ের পাশাপাশি বিরতির সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের অভিজ্ঞতায় আমি নিজের জন্য অন্তত এটুকু বুঝলাম।

কখনো কখনো কাজ থেকে কিছুক্ষণ দূরে যাওয়াটা কাজ থেকে পালানো নয়।

বরং আবার ভালোভাবে কাজে ফেরার প্রস্তুতি।

## বিরতি মানেই সময় নষ্ট নয়

আমাদের একটা সাধারণ ধারণা আছে,

“আমি যদি ৩০ মিনিট কাজ না করি, তাহলে ৩০ মিনিট নষ্ট হয়ে গেল।”

কিন্তু বিষয়টা এত সরল নয়।

ধরুন, আপনি একটানা কাজ করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছালেন যেখানে আপনার মনোযোগ নেই, শরীর ভালো লাগছে না এবং একই কাজ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

সেই অবস্থায় আরও এক ঘণ্টা বসে থাকা কি সত্যিই productive?

নাকি কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আবার সতেজভাবে কাজে ফিরলে সেই সময়টা বেশি কার্যকর হতে পারে?

The 5 Second Rule বইয়ের একটি অংশে কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করা এবং কাজের মাঝখানে বিরতি নেওয়ার গুরুত্বের কথা এসেছে। সেখানে বিরতিকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং মস্তিষ্ককে বিশ্রাম ও পুনরায় শক্তি পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

আজ আমার অভিজ্ঞতা সেই ধারণাটাকে নিজের জীবনের একটি ছোট বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে সাহায্য করেছে।

## তবে বিরতি বলতে কী বোঝায়?

বিরতি মানেই মোবাইল নিয়ে বসে যাওয়া নয়।

অনেক সময় কাজ থেকে উঠে আমরা সঙ্গে সঙ্গে Facebook, TikTok, YouTube বা অন্য কোনো social media platform-এ ঢুকে যাই।

তখন শরীর হয়তো কাজের জায়গা থেকে উঠে এসেছে, কিন্তু মন আবার অন্য ধরনের information এবং distraction-এর মধ্যে ঢুকে যায়।

আজ আমি এমন কিছু করিনি।

আমি শুধু মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

এটা কোনো planned productivity technique ছিল না।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা একটা সুন্দর mental reset হিসেবে কাজ করেছে।

## আপনি যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন

পরেরবার এমন হলে নিজেকে সঙ্গে সঙ্গে অলস বলা বন্ধ করে একটু লক্ষ্য করুন।

নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে পারেন:

আমি কি সত্যিই কাজটি করতে চাই না?

নাকি আমি অনেকক্ষণ ধরে কাজ করছি?

আমার মনোযোগ কি কমে গেছে?

আমি কি একই কাজ বারবার ভুল করছি?

আমি কি কিছুক্ষণ কাজ থেকে দূরে গেলে ভালো বোধ করতে পারি?

যদি বুঝতে পারেন আপনার একটা বিরতি প্রয়োজন, তাহলে কিছুক্ষণ কাজ থেকে দূরে যান।

পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

হাঁটতে পারেন।

শান্তভাবে বসতে পারেন।

অথবা এমন কিছু করতে পারেন যা আপনাকে কাজের চাপ থেকে কিছুক্ষণের জন্য বের করে আনে।

তারপর আবার কাজে ফিরে আসুন।

## সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিরতির উদ্দেশ্য যেন পরিষ্কার থাকে

বিরতি নেওয়া মানে কাজ বাদ দেওয়া নয়।

বিরতি নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো আবার কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

এখানে একটা পার্থক্য আছে।

একজন মানুষ ক্লান্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে সারাদিনের জন্য কাজ থেকে পালিয়ে যেতে পারে।

আবার একজন মানুষ বুঝতে পারে, এখন তার কিছু সময় দরকার, তাই একটু থেমে আবার কাজে ফিরে আসতে পারে।

দুটো এক জিনিস নয়।

আমি দ্বিতীয় বিষয়টাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

## আজকের অভিজ্ঞতা থেকে আমার শিক্ষা

আজ আমি কোনো বড় productivity formula আবিষ্কার করিনি।

শুধু নিজের জীবনের একটা ছোট ঘটনা লক্ষ্য করেছি।

আমি কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

তারপর মায়ের কাছে গিয়ে আধা ঘণ্টার বেশি সময় কথা বললাম।

আর ফিরে এসে দেখলাম, আমার মাথা এবং মন দুটোই আবার কাজের জন্য প্রস্তুত।

তাই এখন আমার কাছে productivity মানে শুধু বেশি সময় কাজ করা নয়।

Productivity মানে কখন কাজ করতে হবে, কীভাবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে এবং কখন কিছুক্ষণের জন্য থামতে হবে, সেটাও বোঝা।

আমরা জীবনে অনেক কিছু তৈরি করতে চাই।

ব্যবসা করতে চাই।

ক্যারিয়ার গড়তে চাই।

নতুন skill শিখতে চাই।

নিজের স্বপ্ন বাস্তব করতে চাই।

কিন্তু সেই পথে এগোতে গিয়ে নিজের শরীর ও মনের প্রয়োজনকেও উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

কখনো কখনো কয়েক মিনিটের একটি বিরতি আপনাকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না।

বরং আবার ভালোভাবে কাজের কাছে ফিরিয়ে আনে।

আজ আমার জন্য সেই বিরতিটা ছিল খুব সাধারণ একটি বিষয়।

মায়ের পাশে বসে কিছুক্ষণ কথা বলা।

আলহামদুলিল্লাহ, এরপর আবার কাজে ফিরতে পেরেছি অনেক ভালো অনুভূতি নিয়ে।

হয়তো আমাদের সবারই মাঝে মাঝে এমন একটা বিরতি দরকার।

কোনো screen ছাড়া।

কোনো notification ছাড়া।

শুধু নিজের কাছের একজন মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলা।

কারণ সবসময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কখনো কখনো একটু থামতেও হয়।

Learn. Build. Share.

— Tanim Sarkar

লেখাটি কাজে লাগলে শেয়ার করুন।

ব্লগে ফিরে যান
Digital Business

Digital Business, Marketing ও Web Development নিয়ে আমার কাজ

প্রকাশিত · ২ মিনিটে পড়া

Digital Marketing, E-commerce, Website Development, AI—শুনতে আলাদা আলাদা কাজ মনে হলেও Tanim Sarkar হিসেবে আমার কাছে এগুলো একটি বড় লক্ষ্যের অংশ: মানুষ ও…

পড়ুন →
Content Creation

আমি কী নিয়ে Content তৈরি করি? Business, AI, Marketing ও Technology

প্রকাশিত · ২ মিনিটে পড়া

একজন Creator হিসেবে Tanim Sarkar কী নিয়ে Content তৈরি করেন—এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই এই লেখা। আমার Content-এর মূল লক্ষ্য একটাই: বাস্তব কাজ থেকে যা শিখেছি,…

পড়ুন →
Entrepreneurship

আমার Business Journey: Online Business থেকে Entrepreneurship পর্যন্ত

প্রকাশিত · ২ মিনিটে পড়া

প্রতিটি উদ্যোক্তার গল্প আলাদা। আমার গল্পে কোনো বড় বিনিয়োগ বা রাতারাতি সাফল্য নেই—আছে ছোট পরিসরে শুরু, হাতে-কলমে শেখা এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া। এই…

পড়ুন →